ইসরায়েলি বাহিনী অভিযানেই নামে পাঁচ ফিলিস্তিনি নাগরিককে গুলি করে হত্যা করেছে।

দখলকৃত পশ্চিম তীরে অভিযান চালিয়ে পাঁচ ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করেছে ইজ্রায়েসলি বাহিনী। রবিবার রামাল্লা ও জেনিন শহরের কাছে পাঁচটি আলাদা অভিযান পরিচালনা করে ইসরায়েল। ইজরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করছে যে ফিলিস্তিনি নিহতের জবাবে গাজা উপত্যকা থেকে রকেট হামলার পরিকল্পনা করছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাগামী গোষ্ঠী হামাস। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গোলোর খবরে বলা হচ্ছে যে তিন ফিলিস্তিনি নিহত হন কাফাবীদ এলাকায়। তাদের মরদেহ আটকে রেখেছে ইজরায়েলি বাহিনী। বাকিজনকে বার্কিনে হত্যা করা হলেও তাকে ইতিমধ্যেই দাফন করা হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যাওয়ার পথে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেড দাবি করেন যে ইসরায়েলের বাহিনী পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল তারা ইজায়েলের ভূখণ্ডে রকেট হামলা চালানো। এই অপচেষ্টা থামাতে ইজরায়েলি বাহিনীর এই অভিযান শুরু করে। যদিও এই বিষয়ে এখনো হামাসের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা বলেছেন আগামী ২০ বছর টিকতে পারবে না ইজরায়েল দেশটি:

এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাবেক সিপসফস স্টাফের চেয়ারম্যান কলিং পাওয়েলের সচিব লরেন্স ওয়েলকিয়ারসন বলেছেন যে ইহুদিবাদী ইসরায়েল আগামী ২০ বছর টিকে থাকতে পারবেনা। তিনি বলেন বর্ণবাদের মাদ্ধমে ইজরায়েল নিজেকে অবৈধ সরকার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে। ওয়েলকিয়ারসন বলেন যে ইসরায়েল আগামী ২০ বছরের মধ্যে টিকে থাকতে পারবেনা এটি বিদায় নেবে। ইজরায়েল কখনোই গণতান্ত্রিক হবেনা। এটি হবে বর্ণবাদী সরকার এবং দক্ষিণ আফ্রিকাকে যেভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলো ঠিক সেভাবেই লোকজন ইজরায়েলকে লোকজন প্রত্যাখ্যান করবে। আবারো বলছি ইজরায়েল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। ওয়েলকিয়ারসন আরো বলেন ১৯৪৭ ও ১৯৪৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হেরিট রোমান সীকৃতি দেবেন কিনা এবং ইজরায়েলের ব্যাপারে আমেরিকান নীতি কি হবে সেটি নিয়ে ভেবেছিলেন। আমেরিকার সাবেক এই কর্মকর্তা বলেন যে, ইজরায়েলের ব্যাপারে আমেরিকার কৌশলগত দায়িত্ব রয়েছে এবং যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে আমেরিকাকে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে দেয়ার। আমি মনে করি ইজরায়েল সম্ভবত সেই সরকার যারা শেষ যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাবে। ওয়েলকিয়ারসন আরো বলেন যে , ইজায়েলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আছে এটি হচ্ছে একটিমাত্র কৌশলগত ইতিবাচক দিক। এছাড়া ইজরায়েলের বাকি সবকিছুই নীতিবাচক। যুক্তরাষ্টের সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন ইজরায়েলের পক্ষে অর্ধেক বিশ্বের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এটি ভালো কিছু নয় ইজরায়েল সরকারের লাগাম টেনে ধরা অতি জরুরি কিন্তু তা কখনোই হবে না।

 

ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলের দখলদারি, বসতি এবং সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের জন্য:

ইহুদিবাদী ইজরায়েলকে এক বছরের সময় শিমা বেঁধে দিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম বার্ষিক অধিবেশনে মাহমুদ আব্বাস ইজরায়েলকে এই সময় শিমা জানিয়ে দেন। অন্যথায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ১৯৪৭ সালের সীমানা মানবেনা বলে হঁশিয়ারি করে দেন মাহমুদ আব্বাস। আলজাজিরার খবরে বলা হয় যে দিন ফিলিস্তিনের রামাল্লা শহর থেকে ভিডিও লিংকের মাদ্ধমে মাহমুদ আব্বাস জাতিসংঘ অধিবেশনে তার ভাষণ তুলে ধরেন। বলেন ১বছরের মধ্যে ইজরায়েলকে ফিলিস্তিনি ভুখন্ড ছেড়ে চলে যেতে হবে। অন্যথায় তেলাবিবকে আন্তর্জাতিক আলাদলতের মুখোমুখি হতে হবে। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট বলেন যে আগামী ১বছরের মধ্যে পশ্চিম তীর পূর্ব জেরুজালেম শহর এবং গাজা উপত্যকা দখলদারিত্বের অবসান যদি না হয় তাহলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ১৯৪৭ সালের সীমানা মানবে না। মাহমুদ আব্বাস আরও বলেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাশ হওয়া প্রস্তাব অনুসারে ফিলিস্তিনের মর্যাদা এবং ফিলিস্তিনের অবস্থান নির্ধারিত হবে। কিন্তু এটা যদি ইজরায়েল না করে তাহলে ১৯৪৭ সালে সীমান্তের ভিত্তিতে ইজরায়েলকে ফিলিস্তিন কেন সীকৃতি দেবে? ফিলিস্তিনের সংগ্রামী জনগণ নিজেদের প্রয়োজনে ফিলিস্তিনকে সংগ্রামের মাদ্ধমে নিজেদের অধিকার আদায় ও ভাগ্য নিজেরাই নির্ধারণ করবে।

 

সৌদি আরবে ভিতর ভিক্ষা করলেই এখন ২২ লাখ টাকা জরিমানা:

সৌদি আরব ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে কঠোর আইন পাশ করেছে। দেশটিতে কেও ভিক্ষা করলে একলাখ সৌদি রিয়াল অর্থাৎ বাংলাদেশী মুদ্রায় ২২লক্ষ ৭২হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। সম্প্রতি এই আইনের অনুমোদন দিয়েছে দেশটির মন্ত্রী পরিষদ। নতুন আইন অনুসারে সৌদি আরব কেউ ভিক্ষা করলে ভিক্ষুকদের ব্যবস্থাপনায় জড়িত থাকলে অথবা তাদের সংগঠিত করলে তাদের কঠোর সাজার মুখোমুখি হতে হবে। সে ক্ষেত্রে কেউ কাউকে ভিক্ষাবৃত্তিতে সাহায্য বা উৎসাহিত করলে ছয় মাস পর্যন্ত জেল অথবা ৫০হাজার রিয়াল জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দণ্ডিত হতে পারেনা। সৌদি আরব এর নতুন আইনে বলা হয়েছে নতুন আইনে কেউ ভিক্ষা করলে তাকে সাজা ভোগের পর স্বদেশে ফেরত পাঠানো হবে। একবার ফেরত গেলে তিনি কখনোই কোনো কাজের জন্য সৌদি আরবে ঢুকতে পারবেন না। তবে বিদেশী ভিক্ষুকদের কেউ যদি কোনো সৌদি নারী বা সন্তান হন তাহলে স্বদেশে ফেরত যাওয়া থেকে তিনি বেঁচে যাবেন। নতুন আইনে বলা হয়েছে যে ভিক্ষা বৃত্তির অপরাধে কেউ একাধিকবার গ্রেপ্তার হলে আরো কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হবেন। এই আইন কার্যকরের ভার দেয়া হয়েছে সৌদির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়কে। সৌদি আরবের মানব সম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন এর তথ্যমতে ২০১৮ সালে দেশটিতে ২৭১০ জন ভিক্ষুককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এদের মধ্যে নারী ছিল ২১৪০ জন আর পুরুষ ছিলেন ৫৭০ জন।

জাতীয়, আন্তর্জাতিক, রাজনীতি, অর্থনীতি, ব্যবসা , বিজ্ঞান ,কম্পিউটার ,যাবতীয়, খবরবাংলা ভাষায় খবর  আরও পড়ুন   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *