আপনার ভবনের দেয়ালে নােনা ধরলে আমাদের যা করণীয়: প্রায়ই দেখা যায় আমাদের আশেপাশে কিংবা গ্রামে ভবনের দেয়ালে নােনা ধরে। তবে এতে যে রং করা হােক না কেন, তার ওপর হালকা থেকে গাঢ় এবং সাদা রঙের আস্তরণ পড়বেই। এভাবে নােনা ধরার কারণে ইট বা পাথরের তৈরি দেয়ালে সাদা সাদা লবণের অধঃক্ষেপ সৃষ্টি হয়ে থাকে। যা দেয়ালের সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব নষ্ট করে। এর থেকে রক্ষা পাওয়ার কিছু উপায় রয়েছে যা আমাদের সবারই জানা উচিত। আসুন জেনে নেই সেসব উপায় বা কৌশলগোল সম্পর্কে।

ভবনে নোনা ধরার লক্ষণ: প্রথম প্রথম দেয়াল ঘেমে যেতে থাকে বা ভেজা ভেজা ভাব চলে আসে। এর কিছুদিন পর দেয়ালে সাদা সাদা আস্তরণ দেখা দেয়। পরবর্তীতে সাদা লবণের ভারি আস্তরণ দেখা দেয় এবং প্রাস্টার ঝরে পড়তে থাকে। কারণ: নােনা ধরার কারণসমূহ নিম্নরূপ

১. ভবন নির্মাণে কম পােড়ানাে ইট ব্যবহার।

২. আমরা সবাই জানি যে মাটি দিয়ে ইট তৈরি করা হয়ে থাকে, তবে মাটি দিয়ে ইট তৈরী হয় সে মাটিতে লবণের পরিমাণ বেশি।
৩. বাসা বাড়ি তৈরি করতে যেসব উপকরণ দরকার হয়: যেমন- সিমেন্ট, বালি, পানি প্রভৃতির মধ্যে লবণের পরিমাণ ২.৫% এর থেকও বেশি থাকে।
৪. সঠিকভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থার অভাব।
৫. ভবনের দেয়ালে মাঝের পানির লাইনে ছিদ্র থাকা ।
৬. প্লাস্টার শুকিয়ে যাবার আগেই রং করে ফেলা।
৭. গাঠনিক ত্রুটি ইত্যাদি।

৮. ঘরের ভেতরে পর্যাপ্ত আলাে বাতাসের অভাব।
৯. মেঝে আর ঘরের মাঝেখানের দেয়ালে সঠিকভাবে সিক্ততা স্তর না থাকার কারণে।

করণীয়: ভবন নির্মাণের  আগেই নােনা ধরার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। নােনা ধরার মূল কারণ নির্মাণ সামগ্রী আর নির্মাণ প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল। তবে সাধারণত দুটি উপায়ে নােনা প্রতিরােধ করা যায়স্বাভাবিক উপায়: প্রথমে সঠিকভাবে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার মাধ্যমে।

তাই বাড়ি নির্মাণের আগেই সে স্থানের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। বাড়ির চারপাশে ভালাে ড্রেন স্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে, যেন পানি জমে না। থাকে। ছাদে সঠিক ঢাল রাখতে হবে, যাতে বৃষ্টির পানি তাড়াতাড়ি বের হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া বৃষ্টির ঝাপটা থেকে রক্ষার জন্য দেয়ালে সানশেডের প্রয়ােজন। ইটের পানি ধারণ ক্ষমতা খুবই বেশি। ফলে বৃষ্টির পানি থেকে দেয়ালকে যতটা সম্ভব দূরে রাখতে হবে ।

ইটের গাঁথুনির ফ্রাশ পয়েন্টিং করলে অতিরিক্ত পানি দেয়ালের গায়ে জমা হতে পারে না। অনেক সময় ছিদ্রযুক্ত দেয়াল দিয়ে ও আর্দ্রতা দূর করা যায় । দ্বিতীয়ত প্রয়োজনীয় আলাে-বাতাস চলাচলের মা।মে নােনা রোধ করা যায় । ঘরের মাঝে সব দেয়ালে সমানভাবে রোদের আলাে প্রবেশ করতে পারে না, সেক্ষেত্রে নকশা তৈরির সময় ই যেসব দেয়ালে রােদের আলাে কম পড়ে;

সেসব দেয়ালে সঠিকভাবে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে বৃষ্টির পানি আর রােদের অভাবে দেয়ালটি স্যাতসেতে হয়ে নােনা ধরার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। তাই সর্যতাপ এবং বাতাস। চলাচলের উপর নির্ভর করে নির্মাণ করতে হবে ভবন। কৃত্রিম উপায়: এক্ষেত্রে প্রথমত গাত্রক পানি নিরােধক ব্যবস্থার মাধ্যমে রােধ করা যায় । এ ব্যবস্থা দু’ভাবে হতে পারে, যেমনবাইরের দিকের গাত্র এবং ভেতরের দিকের গাত্র ।

যেহেতু বাইরের দিক থেকেই পানি বুনিয়াদ বা কাঠামােতে প্রবেশ করে। সেজন্য বাইরের দিকের গাত্রক ব্যবস্থা ভেতরের দিকের গাত্রক ব্যবস্থার চেয়ে বেশি কার্যকরী। বাইরের দিকের গাত্রের সিক্ততা নিরােধ করার সহজ ব্যবস্থা হচ্ছে, ইটের জোড়ায় মুখগুলাে খুলে পয়েন্টিং করা এবং পরে ভালাে করে প্লাস্টার করা। ভেতরের দিকে প্লাস্টারের ওপর সাধারণত মােম বা সিলিকেট দ্রবণ লাগানাে হয়। তবে এ ব্যবস্থা ২-৩ বছর পরপর করতে হবে। দ্বিতীয়ত পানি নিরােধক আচ্ছাদন

সংযােজনের মাধ্যমেও রােধ করা যায়। বিটুমিন শিট, প্লাস্টিক শিট, মেটাল শিটের মাধ্যমে পানি প্রতিরােধী একটি স্তর গড়ে তােলা হয়। প্রতিকারের উপায়: ভবন নির্মাণের পর নােনা দেখা যাওয়া আমাদের দেশের আবহাওয়ায় বেশ কমন। একে তাে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে বছরজুড়ে; সেই সাথে নির্মাণের সময়ে সতর্কতার অভাব।

শখের বাড়িতে নােনা ধরে গেলে সেটা প্রতিকারের ব্যবস্থা করার কিছু উপায় রয়েছে। হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এইচবিআরআই) ভবনের নােনা ধরা প্রতিকারের জন্য এইচবিআরআই-এসপি এবং এইচবিআরআই-ডিপি নামে দুটি দ্রবণ উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছে। এদের ব্যবহারবিধি নিচে দেওয়া হলাে- ১. ভবনের যেসব স্থানে নােনা দেখা দিয়েছে; সেসব জায়গার। রং, চুন ইত্যাদির প্রলেপ ভালােভাবে সরিয়ে ফেলতে হবে।

 

আরো পড়ুন জানা-অজানা সব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *