গরমে রোজার সময় পানিশূন্যতা এড়াতে খাবারের টিপস| Food tips to avoid dehydration during hot Ramadan

রোজার সময় দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয় তার উপৱ গরম এর মৌসুমে রোজা রাখতে গিয়ে। পানিশূন্যতায় ভোগার আশঙ্কা বেশি থাকে আর এই পানিশূন্যতায় কারণে হার্টফেইল কিংবা প্রেসার কমে গুরুতর বিপত্তি হতে পারে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।

এছাড়া পানির অভাবে জিব্বা শুকিয়ে যায় অনেকের চোখ গর্তে চলে যায় কিংবা দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে তাছাড়া শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা হতে পারে।

(গরমে রোজার সময় খাবারের টিপস)

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সাজ্জাদ হোসেন বলছেন যারা রোজা রাখেন তাদের যেন কোনভাবে পানিশূন্যতা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

(Health Tips Ramadan)

বিশেষ করে বয়স্কদের এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট পানি পানের কোনো বিকল্প নেই ,
পুষ্টিবিদ রুবাইয়া রীতি বলছেন একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে আড়াই থেকে তিন লিটার পানি প্রয়োজন।

রোজা রাখলে ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই পরিমাণ পানি পান করতে হবে। তবে সেই পানি হতে হবে স্বাভাবিক তাপমাত্রাৱ ফ্রিজের ঠান্ডা পানি খাওয়া মোটেও ঠিক নয়।

১ / শাকসবজি

সেহরি ও ইফতারের বিভিন্ন সবজি ও মৌসুমী ফল যোগ করতে পারেন। সবজির মধ্যে রয়েছে সবুজ শাক, লাউ, কুমড়া , মুলা, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, বরবটি, সেইসাথে শসা, টমেটো, পুদিনা , লেবু,
অনেক উপকারে আসবে বলে পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন।

২ / ফলমূল ও পানীয়

পুষ্টিবিদরা বলছেন মৌসুমি ফলের মধ্যে আম, পেপে , বাঙ্গি , তরমুজ, কমলা, জাম্বুরা , ডালিম,
এর মতো ফল খাওয়া যেতে পারে। আর এই সব ফলের জুস ডাবের পানি লেবুর শরবত জিরা পানি অ্যালোভেরার শরবত খেতে পারেন। এইসব খাবারে পানির পরিমাণ থাকায় শরীল দীর্ঘসময় আদ্র থাকে সেইসাথে এইসব খাবার সহজে হজম হয় বলে জানিয়েছে পুষ্টিবিদ্যাৱা ।

৩ / মাছ- মাংস দুধ ডাল ও অন্যান্য,

সারাদিনের ক্যালোরি ঘাটতি মেটাতে খেজুর, অঙ্কুরিত ছোলা, বিভিন্ন ধরনের ডাল ও ভুট্টা , মাংসের স্যুপ ,হালিম, চিড়া, দুধ ও দই , মাঠা সামুদ্রিক মাছ, ইত্যাদি খেতে পারেন। এসব খাবার শরীরে শক্তি সঞ্চয় করে তেমনি পানি ও ধরে রাখে বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ্যা। তবে কারো যদি কিডনির সমস্যা থাকে সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে খাবার নির্বাচন করতে হবে।

৪ / চা-কফি

ইফতারের পর অতিমাত্রায় চা-কফি খেলেও পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে । যদি খেতেই হয় তাহলে পরিমিত রং চা খাওয়ার পরামর্শ পুষ্টিবিদদের।

৫ / যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন

অতিরিক্ত ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার ফাস্ট ফুড ও মসলাদার খাবার অতিরিক্ত চিনি লবণযুক্ত খাবার কোমল পানীয় বা এনার্জি ড্রিংকস খেলেও পানিশূন্যতা হতে পারে। সেই সাথে পেটে গ্যাস হওয়ার আশঙ্কা থাকে তাই রোজার মাসে এসব এড়িয়ে চলা ভালো।

৬ / কতটুকু খাবেন

অনেকেই ইফতারের পর আর খেতে চান না এটা ঠিক নয় রাতের খাবার খেতে হবে পরিমিত মাত্রায় এবং সেহরিও খেতে হবে তাহলে পানির ঘাটতি কম হবে। আবার দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকতে হবে দেখে সেহেরিতে অনেকে প্রচুর খাবার খেয়ে থাকেন এতে শরীরের পানির শূন্যতার ঝুঁকি বেড়ে যায় । কেননা এই অতিরিক্ত খাবার হজম করতে পাকস্থলীর সারাদিন ধরে শরীর থেকে পানি শোষণ করে নেয় তাই অতিরিক্ত খেলে শরীর থেকে পানি শূন্যতা দেখা দেয়।

৭ / অনন্য সতর্কতাঃ

আরো কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরী যেমন অতিরিক্ত রোদে গরমে থাকার কারণে ঘামের ফলে শরীল থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়।
তাই রোজা রাখার সময় সরাসরি রোদ ও অতিরিক্ত কায়িক পরিশ্রম এড়িয়ে যাওয়া ভালো
শরীর ফিট রাখতে নিয়মিতভাবে গোসল ও চোখে মুখে বার বার পানি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা এরপরও শরীর দুর্বল লাগলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Food tips to avoid dehydration during hot Ramadan

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *