টাইপরাইটারের তুলনায় ওয়ার্ড প্রসেসরের সুবিধা

টাইপরাইটারের কী চেপে কালিযুক্ত রিবনে আঘাত করে কাগজে অক্ষর মুদ্রণ করা হয়। এতে ভুল অক্ষর টাইপ করলে মুদ্রণও ভুল হয়। এতে সংশােধন করার কোন উপায় নেই।

 

তাছাড়া এতে অনেক সময়ক্ষেপণ করে টাইপ করা হয়। এছাড়া অনেক কাজকে সংরক্ষণ করা যায় না।

কিন্তু যেকোন ওয়ার্ড প্রসেসর দিয়ে শব্দ টাইপ করার পর সংশােধন করার পর কাগজে মুদ্রণ করা যায় এবং কাজকে সংরক্ষণ করা যায়। এছাড়াও আরও অনেক সুবিধা পাওয়া যায়।

 

যেকোন ওয়ার্ড প্রসেসর দিয়ে লিপি প্রস্তুতকরণে নিম্নলিখিত সুবিধা পাওয়া যায়।

 

১. লেখার মাঝখানে নতুন কোন লেখা সন্নিবেশিত করা যায় এবং অপ্রয়ােজনীয় কোন

লেখা মুছে দেয়া যায়।

২. লেখার যেকোন অংশ, অন্য যেকোন অংশে কপি বা স্থানান্তর করা যায়।

৩. এক ফাইলের লেখা অন্য ফাইলে সংযােজন করা যায়।

৪. কোন শব্দ বদলিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য কোন শব্দ বসানাে যায়।

৫. বানান ভুল ও ব্যাকরণগত ভুল নির্ণয় ও সংশােধন করা যায়।

৬. সহজে অক্ষরের আকার, আকৃতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

৭, একই ফাইলের মূল লেখার সাথে অন্য ফাইলে সংরক্ষিত ঠিকানা এবং অন্যান্য তথ্য

সংযুক্ত করে ফর্মলেটার তৈরি করা যায়।

 

৮. একই ধরনের কাজ বারবার করার প্রয়ােজন হলে কাজকে একটিমাত্র কমান্ড হিসেবে

সংরক্ষণ করা যায় এবং ব্যবহার করা যায়।

৯. বিভিন্নভাবে সজ্জিত করে কাগজে স্থায়ীভাবে মুদ্রণ করা যায়।

১০, প্রস্তুতকৃত লিপিকে ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য কোন নামে সংরক্ষণ করা যায়।

 

ওয়ার্ড প্রসেসিং এর বৈশিষ্ট্য

সাধাৰণ কম্পােজ ঋ এডিটিং করার ছাড়াও ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যারের আরাে কিছু বৈশিষ্ট। আছে। এই সখ বৈশিষ্ট্য নিয়ে নিয়ে আলােচনা করা হলো। (স্পেল চেকার ও কোন চিঠি-পত্র, রিপাের্ট, ডকুমেন্ট ইত্যাদি টাইপ করার সময় ভুল হওয়া স্বাভাবিক।

 

ওয়ার্ডে কোন কিছু টাইপ করে প্রিন্ট করার আগে চেক করে বানান ভুল থাকলে তা ঠিক করা যায়। প্রায় সব ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যারে ডকুমেন্ট তৈরি করে বানান পরীক্ষা করার জন্য স্পেল চেকার থাকে।

 

শব্দভাণ্ডার (Thesaurus) : ওয়ার্ডপ্রসেসরে থেছারাস ব্যবহার করে কোন নির্বাচিত শব্দের সমার্থক শব্দ খুঁজে বের করা যায়। প্রায় সব ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যারে থেছারাস থাকে।

 

ব্যবহারকারী সহজেই কোন শব্দ নির্বাচন করে ঐ শব্দের সমার্থক শব্দ বের করার নির্দেশ দিলে  * য়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার ঐ শব্দটির সমার্থক শব্দসমূহের তালিকা প্রদর্শিত করবে।

 

অনলাইন হেল্প ঃ জনপ্রিয় প্রায় সব ওয়ার্ডপ্রসেসিং প্রােগ্রামে অনলাইন হেলপের ব্যবস্থা থাকে। অনলাইন হেলপ অপশনটি ব্যবহার করে ব্যবহারকারী যে কোন বিষয়ের তথ্য সাহায্য নিতে পারেন।

 

এখানে তথ্য এমনভাবে সাজানাে থাকে যে ব্যবহারকারী দ্রুত কোন বিষয়ে জানতে পারেন। হেলপ মেনুস্থ বিভিন্ন অপশন থেকে বিভিন্ন কমান্ড কীভাবে ব্যবহার করা যায়,

কোন কাজ করার জন্য ধাপে ধাপে কি কি কমান্ড প্রয়ােগ করতে হবে তা উদাহরণের সাহায্যে জেনে সহজেই কাজ করা যায়।

 

পেজ সেটআপ : ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যারে বিভিন্ন ফাইল তৈরি করে কাগজে প্রিন্ট করা হয়। কাগজে অর্থাৎ পৃষ্ঠায় লেখা কী রকম হবে তা Page Setup এ নির্ধারণ করা হয়।

ক গজের মাপ ক রকম হবে, মার্জিন কতটুকু ছেড়ে হবে, কাগজে কীভাবে লেখা উপস্থাপিত হবে পেজ সেটআপ ডায়ালগ বক্সের বিভিন্ন ঘর পূরণ করে ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলাে নির্ধারণ করা হয় ।

 

ড্রয়িং টুলস : ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যারের ড্রয়িং টুলস ব্যবহার করে প্রয়ােজনীয় বিভিন্ন এ্যারাে, শেপ, বক্স ইত্যাদি আঁকা যায়। এটি ব্যবহার করে এমন কিছু ড্রয়িং করা যায় যা কেবলমাত্র অন্যান্য প্রসিদ্ধ গ্রাফিক্স সফটওয়্যার দ্বারাই করা সম্ভব ছিল।

সাধারণ যে কোন  ড্রয়িংকে থ্রী ডাইমেনশনাল (3-D) এফেক্ট, বিভিন্ন ধরনের রঙের ব্যবহার, লাইটিং শেড, বিভিন্ন  ধরনের টেকচার ব্যবহার করে অতি সুন্দরতম ড্রয়িংএ রূপদান করা যায়।

 

মেইল মার্জ : একই চিঠি অনেকের নিকট পাঠাতে হলে প্রত্যেকের নিকট আলাদা আলাদা করে না পাঠান্তে প্রয়ােজনীয় সম্বােধনের পর নাম,

ঠিকানা বসিয়ে মেইল মার্জ করে প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা করে চিঠি তৈরি করা যায়। এটি ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যারের একটি বিরাট  সুযােগ।

এতে করে ব্যবহারকারীর অনেক সময় বেঁচে যায়। যেমন : চিঠির মূল বিষয় একই কিন্তু ঠিকানা ভিন্ন।

 

প্রথমে মূল চিঠিটি টাইপ করে একটি ডকুমেন্ট তৈরি করে ঠিকানাগুলাে  টাইপ করে আরেকটি ভকুমেন্ট তৈরি করে দু’টি ডকুমেন্ট একসাথে সংযুক্ত বা মার্জ করে দেয় যায়।

 

এতে প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা চিঠি টাইপ না করে শুধু একবার টাইপ করা মূল চিঠির সাথে ঠিকানা সংবলিত ডকুমেন্ট মার্জ করাতে প্রত্যেকের নামে আলাদা আলাদা করে চিঠি তৈরি হবে।

 

ইনডেক্সিং: ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার ব্যবহারে অনেক বড় ডকুমেন্ট তৈরি করা হয়। | ডকুমেন্টের বিভিন্না পৃষ্ঠার নিছি|

নিয়া হাইলাইট করে ইনডেক্সিং নির্দেশ দিলে বর্ণক্রমানুসারে। ইনডেক্স তৈরি হয়।

 

যে শব্দটি হাইলাইট করে ইনডেক্স নির্দেশ দেয়া হয় সেটি বর্ণক্রমানুসারে সঞ্জিত হওয়ার সাথে সাথে শব্দটির ডানদিকে পৃষ্ঠা নাম্বারও পয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসে।

 

গ্রামার চেকার : অনেক ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যারে কোন ডকুমেন্ট তৈরি করে আমার চেকার দিয়ে লেখার ব্যাকরণগত দিকও ঠিক করা যায়।

 

ব্যবহারকারী ইংরেজিতে খুব দুর্বল হলে এ ফিচারটি অনেক সহায়তা করে থাকে। অনেন ওয়ার্ড প্রসেসর প্রােগ্রামে এ সুযােগ না থাকলেও আলাদা করে বাজার থেকে আমার চেকার প্রোগাম কিনে ওয়ার্ড প্রসেসরের সাথে ব্যবহার করা যায়।

 

প্রিন্ট প্রিভিউ ঃ এ অপশনটি ব্যবহার করে প্রিন্ট নেয়ার পূর্বে ডকুমেন্টটি প্রিন্ট করলে কী রকম হবে তা দেখা যায়। এতে করে ব্যবহারকারীর অনেক সময় বেঁচে যায়।

 

ম্যাক্রো: ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যারে ম্যাক্রো ব্যবহার করে অনেক নির্দেশাবলকে একটি নির্দেশ হিসেবে সংরক্ষিত করে রাখা যায়। পরবর্তীতে এ একটি নির্দেশ দিয়ে অনেক নির্দেশাবলির কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাপন করা যায়।

 

সাধারণ নিয়মে ধারাবাহিকভাবে একটি ব পর একটি নির্দেশ অর্থাৎ বার বার নির্দেশ দিয়ে কাজ করা হয়। এভাবে যদি একই কাজ বার বার করার প্রয়ােজন হয় তাহলে বার বার কী চেপে নির্দেশ দিতে হয়।

 

এতে অনেক সময়ের অপচয় হয় কিন্তু ম্যাক্রো পদ্ধতিতে ধারাবাহিক অনেক নির্দেশাবলিকে কোন কা কমান্ড বা টুলবারের  অধীনে রেকর্ড করে রাখলে পরবর্তীতে শুধু ঐ কী কমান্ড (যেমন: Alt+Z) কী-দ্বয় চাপলে  কাজ হবে।

 

টেমপ্লেট এবং উইজার্ডঃ পূর্ব তৈরিকৃত অনেক নমুনা কাজ অনুসারে ব্যবহারকারীর তৈরিকৃত ডকুমেন্টটি উপস্থাপন করার জন্য টেমপ্লেট ব্যবহার করা যায়।

নিজস্ব কিছু তথ্য বসিয়ে নির্দিষ্ট ফর্মেট অনুসারে ডকুমেন্ট তৈরি করার জন্য উইজার্ড ব্যবহার করা যায় ।

 

ওয়ার্ড কাউন্টঃ ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যারের এ অপশনটি ব্যবহার করে কোন ডকুমেন্টে সৰ লেখার অথবা নির্বাচিত অংশের লেখার মােট শব্দ সংখ্যা জানা যায়।

নির্দিষ্ট সংখ্যক শব্দের মধ্যে কোন প্রবন্ধ রচনা করার ক্ষেত্রে এ ফিচারটি অনেক সহায়তা করে থাকে।

 

টেবিল: ডকুমেন্টে প্রয়ােজনে টেবিল তৈরি করতে হয়। ওয়ার্ড প্রসেসিং প্রোগ্রামে টেবিল। নির্দেশ দিয়ে ডকুমেন্টে বিভিন্ন স্টাইলের টেবিল তৈরি করা যায়। টেবিলে লেখাকে সারি এবং কলামে উপস্থাপন করা যায়।

টেবিলের আরাে সুবিধা হলাে এতে সন্নিবেশিত টেক্সটকে বর্ণক্রমানুসারে এবং সংখ্যাসমূহকে সংখ্যানুক্রমিকভাবে সাজানাে যায়। গাণিতিক ফর্মুলা ব্যবহার করে সহজেই সংবার ক্যালকুলেশন করা যায় ।

 

ডকুমেন্টকে HTML এ কনভার্ট করার অনেক ওয়ার্ড প্রসেসিং প্রােগ্রামে তৈরি করা ডকুমেন্টকে HTML এ সংরক্ষণ করা যায়। HTML বা Hypertext Markup Language হল এক ধরনের বিশেষ ভাষা যা কোন সাধারণ ডকুমেন্টকে ওয়েবের উপযােগী করে রূপান্তর  করে।

 

কোন ওয়েব ব্রাউজার প্রােগ্রাম দ্বারা HTML এ রূপান্তরিত ফাইলকে পড়ার উপযােগী করে প্রদর্শন করা যায় । HTML এ সংরক্ষণ করে ওয়েবপেজ তৈরি করা যায় ।

 

লেখাকে কলামে বিন্যস্ত করা:  দৈনিক সংবাদপত্র, সাপ্তাহিক ও মাসিক ম্যাগাজিন এবং বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখাসমূহ কলাম আকারে উপস্থাপন করা হয়।

ওয়ার্ড প্রসেসিং প্রোগ্রামে প্রথমে কলাম তৈরি করে টাইপ করা যায় অথবা টাইপ শেষে কলামে বিন্যস্ত করা যায়। মােট কতটি কলাম হবে এবং প্রতি কলামের মাঝখানের স্পেস কত হবে তা নির্ধারণ করে লেখা

 

ওয়ার্ড প্রসেসরে করা ডকুমেন্টকে মেইল করা :

বর্তমানে প্রায় সব ওয়ার্ড প্রসেসরে করা ডকুমেন্টকে মেইল করার সুযােগ দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ডকুমেন্টটি ওপেন করে File> Send Top Mail Recipient নির্দেশ দিয়ে সরাসরি ই-মেইল প্রােগ্রামের উইন্ডােতে এসে

To তে মেইল এড্রেস টাইপ করে অনলাইনে যুক্ত হয়ে সেন্ড করে পাঠানাে যায়।

 

এতে সুবিধা হলাে ডকুমেন্টটি তৈরিতে ওয়ার্ডের সব সুযােগ নেয়া যায়। যেমনঃ স্পেল চেক, আমার চেক ইত্যাদি। এভাবে সরাসরি না পাঠিয়ে ডকুমেন্টটি অন্য কোন ই-মেইলার প্রোগ্রামে এটাচ করেও পাঠানাে যায়।

 

ক্লিপআর্ট, ছবি, গ্রাফিক্স ইত্যাদি সন্নিবেশিত করা ঃ ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যারের নিজস্ব বিভিন্ন ক্লিপআর্ট, ছবি, গ্রাফিক্স ইত্যাদি ছাড়াও বাইরের কোন উৎসের ফর্মফাইল,

অটোশপ, আর্ট, চার্ট ইত্যাদি ডকুমেন্টে সন্নিবেশিত করা যায় । জুমিং ইন এবং আউট ও পর্দার লেখাকে ছােট বড় করে প্রদর্শন করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *